শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:৩৪ অপরাহ্ন

অর্থনীতি সমিতির ১৭ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিকল্প বাজেট

লেখক
  • প্রকাশিত মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১
  • ১২৮ দেখা হয়েছে

২০২১-২০২২ অর্থবছরের জন্য ১৭ লাখ ৩৮ হাজার ৭১৬ কোটি টাকার বিকল্প বাজেটের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। বিশাল আকারের এ বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (০১ জুন) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত।
‘কোভিড-১৯ ও আর্থ-সামাজিক মন্দা থেকে উত্তরণে বিকল্প বাজেট : ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির প্রস্তাবনা’ শিরোনামে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত বলেন, বাজেট হবে সম্প্রসারণমূলক। ১৭ লাখ ৩৮ হাজার ৭১৬ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করছে অর্থনীতি সমিতি, যা বর্তমান সরকারের যে বাজেট চলছে, তার তুলনায় ৩ দশমিক শূন্য ৬ গুণ বেশি।
তিনি বলেন, এ বিকল্প বাজেটের রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১৬ লাখ ৩ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা। মোট বাজেটের ৯২ দশমিক ২০ শতাংশ যোগান দেবে রাজস্ব খাত। এর মধ্যে ৭৯ শতাংশ হবে প্রত্যক্ষ কর। বাকি ২১ শতাংশ হবে পরোক্ষ কর।

বাজেটের ঘাটতি ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণ নেয়া হবে না। সেই সাথে কোন বৈদেশিক ঋণ নেয়া হবে না। কারণ ব্যাংকের ঋণ সরকারের জন্য না। ঘাটতি পূরণ হবে বন্ড বাজার, সঞ্চয়পত্র ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে।
এর মধ্যে বন্ড বাজার থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা আনা সম্ভব। যা ঘাটতির ৫১ দশমিক ৯০ শতাংশ পূরণ করতে পারে। সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা আসতে পারে। আর সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্ব থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা আসতে পারে বলে মনে করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি।
তিনি বলেন, ১৯৭২-৭৩ অর্থবছর থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত মোট পুঞ্জিভূত কালো টাকার পরিমাণ হবে আনুমানিক ৮৮ লাখ ৬১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা। একই সময়ে পাচার করা টাকার পরিমাণ হবে ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। এখান থেকে সম্পদ কর ৫০ লাখ কোটি টাকা আদায় সম্ভব। আর এক বছরে বিকল্প বাজেটের জন্য কমপক্ষে ১ লাখ কোটি টাকা আদায় সম্ভব।
তিনি ছয়টি প্রস্তাবনা দেন। এর মধ্যে রয়েছে- ধনী-বিত্তশালীদের ওপর সম্পদ কর আরোপ করা, সুপার-ডুপার ধনীদের ক্ষেত্রে কর হার বাড়ানো, শেয়ারবাজার ও বন্ডবাজারে বড় বিনিয়োগের ওপর সম্পদ কর আরোপ করা, অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর বাড়ানো, কালো টাকা বাজেয়াপ্ত ও উদ্ধার করা এবং পাচার করা অর্থ উদ্ধার করা।
অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সাথে করোনা প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা বিচার বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্যখাতে ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা’ নামে নতুন একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠার জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত হেডলাইন বাংলাদেশ
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102